বিসিএস পরীক্ষা কী
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষা হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে নিয়োগের একমাত্র জাতীয় সমন্বিত প্রতিযোগিতা পরীক্ষা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) এই সাংবিধানিক নিয়োগ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে। একটিমাত্র বিসিএস চক্রের মাধ্যমে প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র, নিরীক্ষা ও হিসাব, কর, কাস্টমস, তথ্য সহ সাধারণ ক্যাডার এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, প্রকৌশল, বন প্রভৃতি কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের পদ পূরণ করা হয়। ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার একটি সুবিশাল অংশে প্রবেশের সিদ্ধান্ত এই পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
পরীক্ষার ব্যাপকতা এর তীব্র প্রতিযোগিতার পরিচয় বহন করে। উদাহরণস্বরূপ ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ৩,৭৪,৭৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেন এবং মাত্র ১০,৬৪৪ জন লিখিত পরীক্ষার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন। এটি দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্নাতক নিয়োগ পরীক্ষা, যার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে বহু শিক্ষার্থী দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা করেন।
কারা আবেদন করতে পারেন
বিপিএসসি পরীক্ষার পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করে, সার্কুলার জারি করে এবং bpsc.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করে। আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। ৪৭তম বিসিএসের জন্য সাধারণ বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর, যেখানে ২০২৪ সালের সংশোধনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স শিথিলতা প্রযোজ্য হয়। পেশাগত বা কারিগরি ক্যাডারের পদের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্দিষ্ট ডিগ্রি থাকার শর্ত উল্লেখ থাকে।
তিন ধাপের পরীক্ষা প্রক্রিয়া
বিসিএস মূলত তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়: প্রিলিমিনারি টেস্ট, লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা ভোসি)।
প্রথম ধাপের প্রিলিমিনারি টেস্ট ২০০ নম্বরের অবজেক্টিভ এমসিকিউ পরীক্ষা, যা দুই ঘণ্টায় ২০০টি প্রশ্নের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.৫ নম্বর কাটা যায়। এতে বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ভূগোল ও পরিবেশ, সাধারণ বিজ্ঞান, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি, গাণিতিক যুক্তি, মানসিক দক্ষতা এবং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। সাধারণ ক্যাডারের জন্য ৯০০ নম্বরের বর্ণনামূলক পেপার থাকে এবং কারিগরি ক্যাডারের জন্য অতিরিক্ত পেশাগত পেপার সহ মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
সর্বশেষ ধাপ হলো মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা ভোসি। বিপিএসসির ২০২৪ সালের নিয়ম সংশোধনের পর ভাইভার নম্বর পূর্বের ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ নম্বর করা হয়েছে। লিখিত ও ভাইভার প্রাপ্ত নম্বরের সমন্বয়ে ক্যাডারভিত্তিক চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়।
আবেদন তৈরি করা ও পরীক্ষার দিন
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে টেলিটক পোর্টালে সম্পন্ন হয় এবং টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে হয়। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা এবং সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের জন্য ৫০ টাকা নির্ধারিত। পরীক্ষার দিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র ও মূল জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে সময়মতো পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক। পরীক্ষার হলের ভেতর সকল প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বর্তমান বিজ্ঞপ্তি ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য কমিশনের অফিসিয়াল পোর্টাল দেখুন।